Top News

"কিছু মানুষ জীবনে আসে আশির্বাদ হয়ে"


 "কিছু মানুষ জীবনে আসে আশির্বাদ হয়ে"





বৌয়ের জন্য একটি বোরকা কিনবো বলে নিউমার্কেটে একটা বোরকার দোকানে বোরকা দেখছিলাম। হঠাৎ কে যেন আমাকে ডাক দিলো..!
--নাহিদ...?
নামটা শুনতেই আমি পিছন ফিরে তাকিয়ে দেখি বোরকা পরিহিত একটি মহিলা দোকানের বাইরে দাড়িয়ে আছে..! সাথে একটি তিন চার বছরের মেয়ে। আমি চিনতে পারলামনা, সম্পূর্ণ মুখ মন্ডল ঢাকা। কিন্তু চোখ দুটো কেমন চেনা চেনা লাগছে..! দোকান থেকে বের হয়ে বললাম...
--কে আপনি..?
--চিনতে পারছোনা..?
--না, কিন্তু চোখদুটো পরিচিত মনে হচ্ছে..!
--তুমি যার চোখ দেখেই প্রেমে পড়েছিলে, আমি সেই...
আমি চমকে গেলাম! কোনোদিন ভাবিনি নাতাশার সাথে আবার দেখা হবে..! নাতাশার বিয়ে হয়ে যাবার পাঁচ বছর পর দেখা হলো। আমি বললাম...
--নাতাশা..!!



--হ্যাঁ, কেমন আছো..?
--আলহামদুলিল্লাহ্। তুমি..?
--আলহামদুলিল্লাহ্...! কি বৌয়ের জন্য বোরকা কিনছো বুঝি..?
--হ্যাঁ..
--বিয়ে করেছো কবে..?
--তোমার বিয়ের ছয়মাস পরে তুমি একদিন আমাকে ফোন দিয়েছিলে, মনে আছে..?
--হমম.. বলো, মনে থাকবেনা কেন..!
--তোমার সাথে কথা বলার মাস দুই পরেই বিয়ে করেছি।
--আলহামদুলিল্লাহ্। বাচ্চাকাচ্চা নিয়েছো..?
--হ্যাঁ, একটি ছেলে..
--আলহামদুলিল্লাহ্!
এমন সময় একজন ভদ্রলোক এলেন। লোকটি নাতাশার স্বামী। নাতাশা তার সাথে আমাকে পরিচয় করিয়ে দিলো। নাতাশা ভদ্রলোকটিকে বললো...
--এই হচ্ছে নাহিদ। যার কথা তোমাকে বলেছি..।
লোকটি আমাকে সালাম দিলো। আমি সালামের উত্তর দিলাম। তারপর ভদ্রলোকটি আমাকে বললো...
--আপনার কথা নাতাশার মুখে শুনেছি। আপনি অনেক ভাল মানুষ..।
বেশ কিছুক্ষণ কথা হলো ওদের সাথে। ওরা আমার বৌয়ের জন্য বোরকা পছন্দ করে দিলো। তারপর বিদায় নিয়ে চলে গেলো।


নাতাশা আমার জীবনে এসেছিল আশির্বাদ স্বরুপ। নাতাশাকে পাবার জন্য আমি সবকিছু ছেড়ে দিয়েছিলাম। সবকিছু বলতে, খারাপ পথ থেকে ভাল পথে এসেছিলাম। আমি ছিলাম বাউন্ডুলে টাইপের। বিড়ি সিগারেট খেয়ে বেড়াতাম। মাঝে মধ্যে নেশাও করতাম। সারাদিন আড্ডাবাজি ছাড়া কোনো কাজ ছিলোনা আামার।
 নাতাশা ছিল খুবই ধার্মিক একটি মেয়ে। নাতাশাকে যেদিন বলেছিলাম, আমি তোমাকে ভালবাসি। ও বলেছিল... "বিয়ের আগে প্রেম ভালবাসা পাপ। আর আমাকে পেতে হলে তোমাকে খারাপ পথ থেকে ভাল পথে আসতে হবে। নামাজী হতে হবে। সৎ পথে জীবন যাপন করতে হবে।"
 .
আমি সব মেনে নিয়েছিলাম। আমি নিজেকে খারাপ পথ থেকে ভাল ফিরিয়ে আনলাম নাতাশার জন্য। তারপরও ওর সাথে আমার দেখা হতোনা। ওর চেহারাটা আজ পর্যন্ত দেখিনি। দুই বছর কেটে গিয়েছিল। ওর চেহারাটা একবার দেখতে চেয়েছিলাম। মাঝে মাঝে মোবাইলে কথা হতো। খুব কম। ও বলতো.. "মহান আল্লাহ্ তায়ালা তোমার সাথে আমার মিলন লিখে রাখলে তোমার সাথে আমার বিয়ে হবে, নতুবা নয়। বিয়ে তো আল্লাহর হাতে। বিয়ের পরে আমাকে পরান ভরে দেখো।"
 .
আসলে আল্লাহ তায়ালা আমার সাথে নাতাশার জুটি বেধেঁ দেননি। তাইতো নাতাশাকে বিয়ে করতে পারিনি। আমি বেকার বলে ওর বাবা মা আমার সাথে নাতাশাকে বিয়ে দিতে রাজি হয়নি। নাতাশার বিয়ে হয়ে গেল ঐ ভদ্রলোকের সাথে। যার সাথে নাতাশা আজ আমাকে পরিচয় করিয়ে দিল। অথচ ওর বিয়ে হয়ে যাবার একমাস পরেই আমার চাকরি হয়েছিল। তখন খুব আপসোস করেছিলাম। ইস এই চাকরিটা আর একমাস আগে কেন হলোনা..!!
 .
মনে মনে ভেবেছিলাম, আর বিয়েই করবোনা। কিন্তু এখানেও নাতাশার অবদান অনেক। নাতাশা ওর বিয়ের ছয়মাস পরে একদিন ফোন দিয়েছিল আমাকে। অনেকক্ষন কথা বলেছিলাম। ও বলেছিলো... "নাহিদ, দেখ আল্লাহ তায়ালা তোমার সাথে আমার বিয়েটা লিখে রাখেননি। তানা হলে কেন আমার বিয়ের একমাস পরে তোমার চাকরিটা হবে! তুমি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তেছো। আল্লাহর প্রতি তোমার বিশ্বাস রাখতে হবে। তিনি যা করেন অবশ্যই ভালোর জন্য করেন। তুমি আর বিয়ে করবেনা, একথা তোমার মুখে মানায়না। বিয়ে করা ফরজ। মা বাবার সম্মতিতে একটা ভাল মেয়ে দেখে বিয়ে করে ফেলো। ইন-শা-আল্লাহ! তুমি সুখি হবে। তুমি একটা ভাল ছেলে, আল্লাহ্ তায়ালা অবশ্যই তোমার জন্য আমার চেয়েও ভাল মেয়ে রেখে দিয়েছেন।"
আমি মন দিয়ে নাতাশার কথাগুলো শুনেছিলাম। সেদিন অনেকক্ষণ কেঁদেছিলাম।
.
একদিন আমার মা বাবাকে বললাম আমি বিয়ে করবো..। আমার মা বাবা ভীষন খুশি হলেন। তাদের পছন্দতে বিয়ে করলাম।
 নাতাশার কথাগুলো একবিন্দুও মিথ্যে ছিলোনা। আমি যাকে বিয়ে করেছি, সে এক কথায় একটা লক্ষী মেয়ে। আমি ভাবতেও পারিনা একটা মেয়ে তার স্বামীকে এতটা ভালবাসতে পারে..! সত্যিই আমার স্ত্রীকে নিয়ে অনেক সুখী। আলহামদুলিল্লাহ্..! আসলেই আল্লাহ যা করেন, সবার মঙ্গলের জন্যই করেন।
.
নাতাশাকে পাইনি ঠিকই। কিন্তু নাতাশা আমার জীবনটাকে স্বর্গীয় করে দিয়ে গেছে। তাইতো এখনো নাতাশার জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে দোয়া করি। ওকে যেন আল্লাহ তায়ালা সবসময় ভাল রাখেন।
(সমাপ্ত)
•••

Post a Comment

Previous Post Next Post