শহরের কোলহোল বিষাক্ত বাতাস তথাকথিত উণ্ণায়নের ধরা ছুয়ার বাইরে দূষণমুক্ত বাতাসের চাদরে মোড়া শস্য শ্যামলা সবুজে ঘেরা নদিয়ায় জেলার গ্রাম চৌবেড়ীয়া / সমেশ মণ্ডল ও তার বাবা সুরেশ মণ্ডল অই গ্রাম এর বাসিন্দা '/ তথাকথিত উন্নায়ন সামাজিক বিকাশ থেকে বঞ্চিত এই গ্রাম এর প্রতিটা বাসিন্দা জাটীটে বাগদি পড়াশুনা কোড়া টাডেড় রক্তে নেই / জন্মের পর হাটতে শিখতে জতটূকূ সময় লাগে বাচ্চাদের/ তারপরি মা বাবার পিছুপিছু চলে যায় চাষের ক্ষেতে / সেখানেই তাদের বাবা মার হাত ধরে প্রথম কাজ শেখা/ তাদের প্রধান পেশা মাছ ধরা / গ্রামের বুক চিরে বয়ে চলা ভাগিরথি নদী থেকেই ওরা মাছ ধরে নিয়ে যায় বাজারে বিক্রি করতে / এভাবেই চলে তাদের জীবন যাপন / গ্রাম এর এক প্রান্তে বিঘার পর বিঘা চাষের জমি বিস্তৃত / গ্রামের সকলের ই কিছুনা কিছু জমি অইখনে আছে/ সুরেশ মণ্ডলের ৩ বিঘা জমিতে এই বছর আমন ধানের বীজ বুপন করবেন বলে ঠিক করছেন / সুরেশের পরিবার বলতে ওর ছেলে সমেশ / বউ কঠিন রোগে মারা গেছে ৩ বছর হল / গ্রাম একটা মাত্র হাসপাতাল / সেখানে চিকিৎসা হয় নাম মাত্র / বড় শহরে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করার মত সামর্থ্য ওদের নেই / ওই ৩ বিঘা জমিতে সারাবছর ৪ বার চাষ করে যেটুকু জুটে তাদের খেয়ে পরে চলে যায়
এই বছর অনেক আশা নিয়ে গাঁয়ে খাটার জন্য মনস্থির করে / ঘরের কুনা খুপছি খুজে ৬০০ টাকা পেয়েছে সুরেশ /
ভট্টাচার্য মশাইয়ের শ্যাল মেশিন নিজের জমির দিকে রাতে ২ ঘণ্টার জন্য বলে এসেছে / ঘণ্টা প্রতি উনাকে ১০০ টাকা দিতে হবে /পরের দিন বলদ দিয়ে জমিতে লাঙ্গল দিবে / দিনের বেলায় জল নিতে গেলে ঘণ্টায় ২৫০ টাকা দিতে হবে / রাতে সেটাই নিলে ১০০ টাকা / গরিব সুরেশ ২৫০ টাকা তা নিয়ে রাত ২ টায় ঊঠে সমেশকে ডাকল সুরেশ /
সুরেশ ; সমু জাগ , এই সমু চল দেরি হইতাছে । জমির আল কাইটা জল দেওনের কথা আছিলরে । আলো খান ল ।
বাবার কথা শুনে সমেশ ৫ ব্যাটারির টর্চ খানা সাথে নিল '।
সেই টর্চের জুড়াল আলোয় অই নিকষ কালো অন্ধকারে কাজ করতে গেল সুরেশ আর সমেশ '।
সুরেশ টর্চের আলো ফেলছিল আর সমেশ আল কাটছিল ।
কিন্তু হঠাতই পাশের বাশঝারের শু শু শব্দ ওদের দৃষ্টি অই দিকে গেল। ৫ ব্যাটারির জুড়াল আলোয় যা দেখল তাতে তাদের চক্ষু চড়কগাছ হওয়ার জুগার ।
আশে পাশের একটা গাছের পাতা অ নরছে না কিন্ত বাঁশঝাড় দেখলে মনে হবে যেন বিশাল বড় ঝড় তুফান বইছে অর উপর দিয়ে ।
মাথা উচু করে দারিয়ে থাকা লম্বা লম্বা বাশ গাছের ডগা গুলু একবার মাটি ছুয়ে আবার সুজা হয়ে দাঁড়াচ্ছে ।
যেন বিশাল গতিতে বইতে থাকা হাওয়ার সামনে ওর সুজা হয়ে দাড়িয়ে থাকার সামরথ্যনাই ।
এ রকম শক্ত পউক্ত বাশকে মাটি ছুতে এর আগে কখনও দেখেনি সুরেশ ।ও হাতের টর্চটা ফেলে সমেশের হাত টা ধরেই ছুটল বাড়ীড় দিকে ।
পিছন ঘুরে তাকানোর ভুল টুকু মোটেও করল না ।
পরদিন ভোর থেকেই সমেশের গা জুড়ে জর আসল ।পাড়ার মধ্যে সব থেকে গরিব সুরেশ কে সবাই একটু উপেক্ষা করে চলে । তাই গত রাতের বিবরণ দিয়ে নিজেকে আর হাসির পাত্র বানাতে চায়না । সময়ের সাথে সাথে সমেশের জর বাড়ল বৈ কমল না । দুপুর ঘনাতেই সমেশ ঢলে পড়ল মৃত্যুর কুলে । হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার রাস্তাতেই সুরেশের ২ হাতের উপর প্রান হারায় সমেশ ।
কঠোর স্বভাবের সুরেশ আরও একজন সজন হারানোর যন্ত্রণায় মানসিক ভাবে ভেঙ্গে পরল।
স্বভাব বিরোধী কান্না কোন দিন ই ওর চোখে আসতে চায়না ।
তাই হয়ত বুকের ভিতর চাপা কষ্ট টা বেশী হয় ওড় ।
পাড়ার লোকদের সাথে নিয়ে বিকালের মধ্যে মাটি দেওয়ার কাজটি সম্পন্ন করল । মানসিক ভাবে বিপজস্ত সুরেশ গোরস্থান থেকে ফিরেই বিছানায় গা এলিয়ে দেয় । কোথাও না কোথাও অ জানে অর ছেলের মৃত্যুর জন্য অই রাতের ঘটনা দায়ি। এইসব সাত পাচ ভাবতে ভাবতে ঘুমের দেশে তলিয়ে গেল সুরেশ । রাত যখন অনেক গভীর সুরেশ শুনতে পেল তার ছেলে তাকে দাকছে।
বাবা / এই বাবা উঠ জমির মাটি ভিজে গেছে ; লাঙ্গল দিবিক লাই ।
প্রচণ্ড কালন্ত সুরেশ ঘুমের ঘরেই বলদ ২ টাকেনিয়ে লাঙল লাগিয়ে বেরিয়ে পরল জমির উদ্দেশে । ও ঘুম ঘুম চোখে দেখতে পাচ্ছে অর সামনে হেটে চলেছে অর ছেলে । জেন একটা ঘুমের ঘুরে রয়েছে সুরেশ । হাত পা জেন তার কথা শুঞ্ছেনা ।
কিছু একটার বরশবরতি হয়ে সামনের দিকে চলছে ।
চলবে...............।।
Post a Comment